ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকায় হত্যা করে মরদেহ এনে বসতভিটায় পুতে রাখার অভিযোগ; মূল আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ক্রাইম প্রিভেনশন (উত্তর) মো. মহিদুল ইসলাম, পিপিএম।


কাফরুল থানা সূত্রে জানা যায়, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে একজন তাঁকে বাসার বাইরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।


পরে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা দেন। এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা করেন।


নিখোঁজ রাকিবকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে কাফরুল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামুনকে আইনানুগ হেফাজতে নেওয়া হয়।


জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেন। এতে রাকিবের মৃত্যু হয় বলে আসামি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।


পরবর্তীতে মরদেহটি কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশাযোগে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান মামুন। সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় গিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে মরদেহসহ কার্টনটি মাটিচাপা দেন।


মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টায় ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় তাঁর দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর বড় ভাই জীবন মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑